নড়াইল পুত্র প্রথিতযশা সুরকার কমল দাশগুপ্তের ১০৭তম জন্মজয়ন্তী পালন

1
33

স্টাফ রিপোর্টার

ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক কমল দাশগুপ্তের ১০৭তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। তিনি ছিলেন নড়াইলের কৃতি সন্তান। রবিবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের রূপগঞ্জ বাঁধাঘাটে বাপ্পী স্মৃতি সাংস্কৃতিক একাডেমী ও গ্রেভ শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে এ উপলক্ষে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চিত্রার পাড়ে বাঁধাঘাটে মনোরম পরিবেশে এই সঙ্গীতানুষ্ঠান চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

কমল দাশের সুর করা সমবেত কণ্ঠে ‘এমনই বরষা ছিল সেদিন’ সমবেত সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে বিশেষ এই সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শতাব্দী মৈত্র শিল্পী পূজার কন্ঠে ‘লাইলি তোমার এসেছে ফিরিয়া’, শাওন ও প্রিয়তীর কণ্ঠে ‘পৃথিবী আমারে চায়’ , ঋতু বিশ্বাসের কণ্ঠে ‘এই কি গো শেষ গান’, শীতলের কণ্ঠে ‘এনেছি আমর শত জনমের প্রেম’ এবং সঙ্গীত পরিচালক প্রতুল হাজরার কণ্ঠে‘ কতদিন দেখিনি তোমায়’ গানগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রবিউল ইসলাম, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, ডাঃ মায়া রানী বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহবুব লিটুসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পী ও দর্শকরা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন মো: মহিউদ্দিন।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ২৮ জুলাই প্রসিদ্ধ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত নড়াইলের কালিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের সুরকার হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন কমল দাশগুপ্ত। তুফান মেল, শ্যামলের প্রেম, এই কি গো শেষ দান—চলচ্চিত্রসমূহের গানগুলো এককালে বিপুল সাড়া তুলেছিল। ৪৭ বছর বয়সে ধর্মান্তরিত হয়ে ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমকে বিয়ে করেন কমল দাশগুপ্ত। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান – তাহসিন, হামিন ও শাফিন রয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই প্রায় অযত্নে-অবহেলায় ও বিনা চিকিৎসায় ঢাকায় এই গুণী শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন।