কালিয়ায় হামলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরবাড়িসহ আসবাবপত্র ভাংচুর, নারীসহ আহত ৩

0
16
কালিয়ায় হামলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরবাড়িসহ আসবাবপত্র ভাংচুর, নারীসহ আহত ৩
কালিয়ায় হামলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরবাড়িসহ আসবাবপত্র ভাংচুর, নারীসহ আহত ৩

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইলের পল্লীতে প্রতিপক্ষের সন্ত্রা/সী হাম/লায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরবাড়িসহ আসবাবপত্র ভাংচুরের ঘটনায় ৮টি পরিবারের ৩০ জন সদস্য ঈদ বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। রোববার (১ মে) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। প্রতিপক্ষের হামলায় নুর নাহার (৭০) ও হোসনেয়ারা (২০) নামের দুই নারীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত রোববার (১ মে) থেকে উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া ঘরের বাসিন্দা ভিক্ষুক অন্ধ কালাম শেখসহ ৮টি পরিবারের ৩০জন সদস্য এক প্রকার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। আহত দুই নারীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আহত রমিজুল শেখ (২২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত বছর ৩০ আগস্টে উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত সাবেক ইউপি সদস্য কাতেবর শেখ (৫৪) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে একই বছর ১২ আগস্ট সকালে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তাকেসহ আরো তিনজনকে কুপিয়ে আহত করে।

জানা গেছে, কাতেবর শেখ হত্যা মামলার বিরোধের জের ধরে ওই দিন (১ মে) রাতে লিকু শেখের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদল ১৫-২০টি পাকা,আধপাকা ও টিনের ঘরে হামলা করে তা গুঁড়িয়ে তছনছ করে দেয়া হয়। তাদের হাতে ছিল রামদা, লোহার রড, লাঠি, ফালা ও কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র। তাঁরা প্রথমে বাড়িতে থাকা মহিলাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে থাকে। তখন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ভয়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেন। সেই সুযোগে বাড়িঘরগুলো ভেঙে লুটপাট এবং তছনছ করে দেয়া হয়। মাত্র ২-৩ ঘণ্টার তান্ডবে প্রতিপক্ষের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে রুবেল কাজী,হাবিবুর রহমান শেখ, মনিরুল শেখ, শাকিব শেখ, সালাম শেখ, আঃ রহমান শেখ, ওহাব শেখ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া ঘর। বাসিন্দা অন্ধ কালাম শেখসহ ৮টি পরিবারের সাজানো বসতবাড়ীর আসবাবপত্র,ঘরের বেড়া, টিনের চালা,রান্না ঘর এমনকি গোয়াল ঘরও ভেঙে চুরমার করেছে। লুটপাট করেছে ফ্রিজ, ধান, চাল-ডাল, টিউবওয়েল, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ২০লাখ টাকার সাংসারিক মালামাল। স্থানীয়রা এটাকে আদিম-বর্বর এবং বড় অপরাধ বলছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ছোট্ট শোবার ঘরে টিনের চালা কুপিয়ে কুপিয়ে বড় বড় ছিদ্র করা হয়েছে। ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে নিচে পড়ে আছে। খাবার চাল-ডালসহ নিত্যসামগ্রী ছড়ানো-ছিটানো পড়ে আছে মেঝেতে। এর পাশে বিমূর্ষ হয়ে শুয়ে ছিলেন ভিক্ষুক অন্ধ কালাম শেখ (৫০)। কী হয়েছে, জিজ্ঞেস করলে তিনি কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আমি নিতান্তই একজন ভিক্ষুক, গৃহহীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী আমাকে থাকার জন্য একটি ঘর উপহার দিয়েছিলেন। সেটি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। এখন আমি কোথায় যাব ? কোথায় বিচার দেব ?’

ভূক্তভোগী রুবেল কাজী জানান, ‘কাতেবর শেখ হত্যা মামলার আসামীরা দীর্ঘদিন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে ছিল। প্রকৃতপক্ষে,পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে যাবার খবর শুনে প্রতিপক্ষের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদল অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিনাকারণে আমাদের ওপর হামলা করে ৮টি পরিবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সন্ত্রাসীরা অসহায় পরিবারের সদস্যদের সাংসারিক মালামালও নিয়ে যায়। যে কারণে সব কিছু হারিয়ে ৫ দিন ধরে নিঃস্ব ও সহায়-সম্বলহীন মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এখন আশপাশের মানুষজন যা দিচ্ছে, তাই খেয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত লিকু শেখ বলেন,‘আমার নেতৃতে এধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে আমি বাড়ি ছিলাম না; আমাদের কিছু লোকজন অনাকাঙ্খিত এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি শুনেছি। এজন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু লুটপাট করা হয়নি। এরজন্য তিনি প্রতিপক্ষকেই দায়ী করলেন।’

এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ তাসমীম আলম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। করলে পরবর্তী আইানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’