নড়াইলে তারাশি গ্রামে আইন শৃঙ্খলার অবনতি

0
15
নড়াইলে অগ্নিকান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত ৩ দিনে ৪টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একজনকে কুপিয়ে মাত্মক রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। একের পর এক ভাংচুর, লুটপাট ও তান্ডবে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘ দিন ধরে দু’টি পক্ষের মধ্যে একের পর এক দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) রাতে তারাশি গ্রামের মুন্সি বাড়ী এবং মোবারক মোল্যার ছেলে জলফু মোল্যার দোকান ভাংচুর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এর আগে রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে এ গ্রামের মুনসুর সিকদারের বাড়ী, মৃত গোলাম সিকদারের ছেলে জসিম সিকদার ও অসিম সিকদারের বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে একই দুবৃত্তরা।

সরজমিন সোমবার (৩০ অক্টোবর) অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয়রা জানায় দু’টি পক্ষের দ্বন্দ্বের জন্য এলাকা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। তারাশি গ্রামের জসিম সিকদারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, প্রতিপক্ষ দুবৃত্তরা রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে তাদের বাড়ি হামলা চালায়। একারণে তার স্বামীসহ বাড়ির সকল পুরুষ সদস্যরা বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘর-বাড়ী ভাংচুর করে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। ফ্রিজ,আলমিরা, শোকেসসহ অনেক দামি মালামাল কুপিয়ে নষ্ট করে রেখে গেছে। এতো ক্ষতি করেছে যে, রান্না করে খাওয়ার মত কোন পরিবেশ নেই।

আরও জানা যায়, শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তারাশি গ্রামের সরোয়ার মোল্যা (৫০) স্থানীয় মাইজপাড়া বাজার থেকে নিজ বাড়ীতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কল্যাণখালি এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা দুবৃত্তরা তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এরপর তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সরোয়ারের ওপর হামলা ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক বাড়ী-ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। এদিকে সরোয়ারের পক্ষের লোকজনের দাবি জসিম ও অসিমের নেতৃত্বে সরোয়ারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে জসিমের পরিবারের সদস্যদের দাবি সরোয়ারের ওপর হামলার ঘটনার সাথে জসিম ও অসিম জড়িত নন। সচেতন মহলের দাবি সরোয়ারের ওপর হামলা এবং বাড়ী-ঘর ভাংচুরের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। দু’টি পক্ষের দ্বন্দ্ব সংঘর্ষের কারণে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষেরা দুশ্চিন্তা ও উৎকন্ঠার মধ্যে আছেন।

জসিমের মা পটল বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রতিপক্ষরা আমার সবকিছুই শেষ করে দিয়েছে। আমার তিনটি ছেলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষরা ৪ বছর আগে আমার স্বামী গোলাম সিকদারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। হত্যা মামলা মিমাংসার জন্য প্রতিপক্ষরা এভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে। নড়াইল সদর থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান,এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধিদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।