বিচার চাওয়ায় স্কুল ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঘরে তালাবন্দি করে বখাটের নির্যাতন!

0
11
গৌরীপুরে একটি বিকল মিটারে ১৪ প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ!
গৌরীপুরে একটি বিকল মিটারে ১৪ প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার

স্কুলের আসা-যাওয়ার পথে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্থানীয় এক স্কুল ছাত্রীকে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করত বখাটে যুবক। এ উত্যক্তের ঘটনায় ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের কাছে বিচার চান স্কুল ছাত্রীর বাবা। বিচার চাওয়ায় স্থানীয় বখাটে যুবক দীপু মিয়া (২৪) ক্ষুব্দ হয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিজ ঘরে তালাবন্দি করে নির্যাতন করে। জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ এসে স্কুল ছাত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে বীর আহাম্মপুর গ্রামে ১৮ মে বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর বাবা ঘটনার সাথে জড়িত যুবক ও তার বাবা-মাকে আসামী করে ১৯ মে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২০ তারিখ-১৯/০৫/২৩)। ঘটনার প্রায় ৮দিন পার হলেও এ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ ওঠেছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বখাটে যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুল ছাত্রীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বখাটে যুবকের প্রভাবশালী পরিবারের হুমকীতে সেই প্রতিবাদ কর্মসূচী ভেস্তে গেছে বলে কয়েকজন মন্তব্য করেছেন।

স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন- স্কুলে আসা যাওয়ার পথে আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করত বীর আহাম্মদপুর গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে দীপু মিয়া। বিষয়টি জানার পর ঘটনারদিন সকালে দীপুর বাবার কাছে বিচার চান। এতে দীপু ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়ের সর্বনাশ করবে বলে হুমকী দেয়। স্কুল ছুটির পর এদিন বিকেলে আমার মেয়ে তার সহপাঠীদের নিয়ে বাড়ি আসছিল। এসময় রাস্তা থেকে জোরপূর্বক আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে তালাবন্দি করে নির্যাতন করে দীপু। এ কাজে সহযোগিতা করেন দীপুর বাবা-মা। ঘটনা জানার পর তাৎক্ষণিক জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পরদিন তিনি গৌরীপুর থানায় মামলা করেন।’

তিনি আরও বলেন- ‘বখাটে যুবক ও তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী। তাই স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। বৃহস্পতিবার স্কুলের উদ্যোগে আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালীদের হুমকীতে তুচ্ছ অযুহাতে এ প্রতিবাদ কর্মসূচী স্থগিত করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অথচ এ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য আমি। এদিকে রহস্যজনক কারনে আসামীদের গ্রেপ্তার করছেন না পুলিশ। বর্তমানে আসামীদের নানা হুমকীতে আতংকে দিন কাটছে আমার।’

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল গফুর, ইসলাম উদ্দিন, চন্দন মিয়া, রোখসানা বেগম জানান- এ ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদ উল্লাহ স্কুলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করেছিলেন। এতে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহনের জন্য মৌখিকভাবে আহবানও করেছিলেন। কিন্ত রহস্যজনক কারণে তুচ্ছ অযুহাতে মানববন্ধন কর্মসূচী স্থগিত করে দিয়েছেন তিনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদ উল্লাহ জানান- এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় মৌখিক সম্মতিতে মানববন্ধন কর্মসূচীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সভার রেজুলেশন খাতায় কেউ স্বাক্ষর না করায় তাৎক্ষণিক মানববন্ধন কর্মসূচী স্থতিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান- এ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।