নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘষের্র জেরে ৮শত একর জমির আবাদ ব্যাহত

0
8
নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘষের্র জেরে ৮শত একর জমির আবাদ ব্যাহত
নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘষের্র জেরে ৮শত একর জমির আবাদ ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ফুলদাহ গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্য বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। ফলে বোরো মৌশুমে এলাকার অন্তত অর্ধশত কৃষক পরিবারের ৮শত একর জমিতে ইরি ধানের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪টি সেচ পাম্প নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা। বেশ কয়েকটি ঘেরের মাছও মেরে (ধরে) নিয়ে গেছে। বাজারে যেতে না পেরে অসহায় জীবন যাপন করছেন এ সকল পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হলেও যে কোন সময় আবারও রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয় প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ফুলদাহ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহাঙ্গির ফকির (৫২) বলেন, বোরো মৌশুমে চারা রোপোনের সময় শেষের দিকে। পাটেরশরী বিলে তার ২০ একর জমি এখনও অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। প্রতি বছর এ জমিতে বোরো আবাদ করতেন তিনি। প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা কেউ বিলে (জমিতে) যেতে পারছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামি ১৫ দিন পরে এ সকল জমিতে চলতি মৌশুমে ইরি বোরো আবাদ করা যাবেনা। এলাকায় সংঘর্ষের আগে ১৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলেও পানির অভাবে সেই জমির ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফুলদাহ গ্রামের আলাল মোল্য বলেন, ছয় একর জমির মধ্যে ৪ একর জমিতে আবাদ করলেও দুই একর জমিতে এখনও আবাদ করতে পারিনি। যে সকল জমিতে বোরো আবাদ করেছি পানির অভাবে সেই জমির ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফুলদাহ গ্রামের বাচ্চু শেখ বলেন, এখনও চার একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। যে জমিতে চাষ দিতে পারিনি সেই জমিতে এবছর ধান আবাদ করা সম্ভাব না। দিদার শেখ বলেন, ছয় একর জমির মধ্যে তিন একর জমিতে চারা রোপন করেছি এবং তিন একর জমিতে চারা রোপন করতে পারিনি।

মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার একটা স্যালো মেশিন এবং একটা মটর নিয়ে গেছে। ঘেরের সব মাছও মেরে নিয়ে গেছে। ৮ একর জমিতে ধান রোপন করেছি এখন পানি দিতে যেতে পারছিনা। এখনও চার একর জমিতে চাষই করতে পারিনি। এরকমের পনেরো দিন থাকলে এই মৌশুম আর এসকল জমিতে বোরো আবাদ করতে পারবোনা। আমার চাচাতো ভাই দিদারুল সরদারে একটা মেশিনও নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লোকেরা।

জানাগেছে, কালিয়া উপজেলার ফুলদাহ গ্রামের ফকির ও মোল্যা গোষ্টির বিবাদমান দুইটি গ্রুপ রয়েছে। ফকির গ্রুপের নেতৃত্বে দিচ্ছেন সেলিম ফকির এবং মোল্যা গ্রুপের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ফসিয়ার মোল্যা। গত ১৪ জানুয়ারি ফকির গ্রুপের বিপ্লব ফকির চাচুড়ি-পুরুলিয়া বাজারে গেলে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরদিন ১৫ জানুয়ারি রিংকু ফকিরকে আবারও মেরে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এসময় উভয় পক্ষের ১৫-১৬ জন আহত হয়। এসময় ফকির গ্রুপের শরিফুল সরদার, তৈয়েব বেগ, রমজান, আলামিন বেগসহ ৮-১০ টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা দায়ের করে, সকলেই বর্তমানে আদালতের জামিনে রয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে আবারও প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা প্রায় অর্ধশত পরিবারের পুরুষ সদস্যরা।

ফকির গ্রুপের নেতা সেলিম ফকির বলেন, মোল্লা গোষ্টির মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা রয়েছে। মুলত তার ইন্দোনেই তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেনা। ভয়ে বাড়ির যুবতী মেয়েদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্থক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ মোল্যা গ্রুপের নেতা ফসিয়ার মোল্যার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তার ছেলে সবুজ মোল্যা এসব অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমাদের লোকজনদের উপর তারা হামলা করে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে।

এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ তাসমীম আলম জাগো নিউজকে বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে সার্বক্ষনিক তারা এলাকাতে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। আশা করছি কোন অপ্রিতিকর ঘটনা আর ঘটবেনা।