জমি রেকর্ডের নামে টাকা আত্মসাৎ, নড়াইলে ভূমি সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
18
জমি রেকর্ডের নামে টাকা আত্মসাৎ, নড়াইলে ভূমি সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
জমি রেকর্ডের নামে টাকা আত্মসাৎ, নড়াইলে ভূমি সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইল-নওয়াপাড়া সড়কের সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের বিছালী পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই আনজিলা বেগমের বাড়ি। স্বামী মৃত আলেক শেখের রেখে যাওয়া ১০ শতাংশ জমির ওপর ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় ৭০ বছর ধরে। প্রতিবেশি ইন্দার মোল্লা জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে এর মদদদাতা বিছালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (নায়েব) আনন্দ মোহন দাশ।

জানা গেছে,আনজিলা বেগম ওই দাগের ১৫ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত পাবার জন্য ২০২০ সালের ১ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেন। সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপন করতে থাকেন।

আনজিলা বেগমের লিখিত আবেদনে জানা যায়, বিছালী মৌজার ১৪৫৭ দাগে মোট ৩০ শতক জমি। জমির সাবেক মালিক প্রফুল্ল কুমার বন্দোপাধ্যায় । ৬২ সালের এস এ খতিয়ানেও তাঁর নামে রয়েছে। তাঁরা ভারতে চলে গেলে ওই জমি ভিপি ল্যান্ড হিসেবে পরিণত হয়। আনজিলা বেগম ওই জমির ১০ শতকের ওপর বাড়ি-ঘর তৈরি করে ৭০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। ভূমি জরিপের সময় দখলি স্বত্ব হিসেবে জরিপের বুজারত খাতায় স্বামী আলেক শেখের নাম লেখা হয়। কিন্তু কোন কাগজপত্র না থাকায় ওই দাগের সব জমি সরকারি খতিয়ানভূক্ত হয়। পরে সরকারের এক ঘোষণা মতে কিছু জমি (ক) এবং (খ) তফশিলভূক্ত হয়। ১৪৫৭ দাগের সব জমি (খ) তফশিল ভূক্ত হয়।

আনন্দ মোহন দাশ গোপনে আবেদনকারীর দাগের জমি খাস নহে। ওই জমি (খ) তফশিল ভূক্ত হওয়ায় উক্ত সম্পত্তি বন্দোবস্ত যোগ্য নহে এই মর্মে সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কাছে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি এক প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগ করা হচ্ছে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার বিত্তশালী ইন্দার মোল্লা ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা আনন্দ মোহন দাশের সহযোগিতায় একটি জাল দলিল করে নিজের নামে জমি রেকর্ড করে নিয়েছেন।

যে কারণে ইন্দার মোল্লা জমি থেকে আনজিলা বেগমের পরিবারকে উচ্ছেদ করতে প্রতিনিয়ত বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ নানা ভ/য়ভী/তি ও অ/ত্যাচার চালিয়ে আসছেন। আনজিলা বেগম ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা আনন্দ মোহন দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তিনি বলেন, আনন্দ মোহন আমাকে বলেছেন যেহেতু বাড়ি এবং জায়গা আপনাদের দখলে আছে আপনাদের পক্ষে প্রতিবেদন দিতে কোন অসুবিধা নেই। আনজিলা বেগম দাবি করেন সরকারের (খ) তফশিলের জমি তার নামে করে দেবার কথা বলে নায়েব আনন্দ মোহন ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি একটি গরু বিক্রি করে এবং কিছু টাকা সুদে এনে নায়েবকে ৫০ হাজার টাকা দেই। টাকা নিয়ে নায়েব বলেন বাড়ি চলে যান আপনাদের পক্ষে প্রতিবেদন পাঠাবো।

কিন্তু তিনি আমাদের পক্ষে কোন প্রতিবেদন দেননি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি ঘুরাতে থাকেন। টাকা আদায়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ঘুরছি। আমার টাকা দেয়না জমিও ঠিক করে দেয় না। তিনি নায়েবের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে নড়াইল-নওয়াপাড়া সড়ক সংলগ্ন বিছালী গ্রামে আনজিলা বেগমের বাড়ি। ১০০ গজ দূরেই বিছালী পুলিশ ফাঁড়ি। আনজিলা বেগমের বাড়ির পেছনে বিশাল পুকুর। পুকুর পাড়ের উত্তর পাশেই ইন্দার মোল্লার বাড়ি।

বিছালী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি কাতেবর মোড়ল (৭০), আসুরা বেগম (৭২) সহ কয়েকজন মুরুব্বী জানান, আনজিলার স্বামী এখানে প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে বসবাস করছেন। এই পরিবারটিকে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে গ্রামের ইন্দার মোল্লা মাঝে মধ্যে এদের ওপর অ/ত্যাচার নির্যা/তন চালায়। বাড়ি-ঘর ভাংচু/র করে। তাঁরা বলেন, শুনেছি ইন্দার মোল্লা পুরো জমি জাল দলিল করে নিজের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যক্তি বলেন,শুনেছি গ্রামের হাশেম গাজী জমির মালিক সেজে ইন্দার মোল্লাকে দলিল করে দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ইন্দার মোল্লা নিজেকে জাতিয় পত্রিকার সাংবাদিক দাবি করে বলেন ক্রয় সূত্রে আমি এই সম্পত্তির মালিক। আনজিলা বেগমের সঙ্গে আমার কোন গোলযোগ নেই।

বিছালী ইউনিয়নের ভূমি সহকারি কর্মকর্তা আনন্দ মোহন দাশ বলেন,আনজিলা বেগমের কাছ থেকে আমি কোন টাকা গ্রহণ করিনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে আমাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছেন। তবে তিনি বলেন, আনজিলা বেগম জমির দখলে আছেন।