মা/দকের হাত যখন শ্রমিকের হাতঃ নড়াইলে অন্যরকম মুক্তির গল্প

9
17
মা/দকের হাত যখন শ্রমিকের হাতঃ অন্যরকম মুক্তির গল্প
মা/দকের হাত যখন শ্রমিকের হাতঃ অন্যরকম মুক্তির গল্প

ওশান প্রতিবেদক

নাম তার গৌর বিশ্বাস, স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি কখনো। জীবনের একটা বিশেষ মুহূর্তে ক্ষণিকের ভুলে জড়িয়েছিল মা/দকের জগতে। ফলাফল স্বরূপ তার বিরু/দ্ধে হয় মা/দকের মা/মলা। রায়ে তাকে ০৮ মাস সশ্রম কা/রাদ/ন্ড ও ২০০০ টাকা জরিমানা দ/ন্ডে দ/ন্ডিত করা হয়। গৌর বিশ্বাস এর মতই দো/ষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সা/জা পেয়েছে জিল্লুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, মুন্না বিশ্বাস, আল আমিন মোল্লা, আজাদ কাজী, মনু মোল্লা, শাওন শিকদার। তারা সকলেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। মা/দকের করালগ্রা/সে জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে কোর্ট বারান্দায়, খরচ হয়েছে অর্থ। যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে তখন তারা রায়ে সা/জাপ্রাপ্ত আসা/মী। না, জেলে যেতে হয়নি গৌর বিশ্বাসকে, জেলে যেতে হয়নি জিল্লুর বা আজাদদের।

The probation of offender’s ordinance এর ০৫ ধারার আলোকে আদালত তাদের দ/ন্ড স্থগিত রেখে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রদান করে। তারা তাদের আপন গৃহে পরিবারের সাহচর্যে অন্যরকম সা/জা ভোগ করেছে। শর্ত ছিল তারা মা/দক বা বে- আই/নী কোন কিছুতে জড়াবে না, পরিবারের সদস্যদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। গৌর বিশ্বাস জীবনে লেখাপড়া করার সুযোগ পান নাই। আদালত তাকে প্রবেশনের শর্ত স্বরূপ লেখাপড়া শিখতে বলেন। মুন্না বিশ্বাস ও কিছু প্রবেশনারদের ঐতিহাসিক ০৭ মার্চ নিয়ে রচিত কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হল’ মুখস্থ করতে দেন। যে গৌর একসময় মা/দক নিত সে এখন ভ্যান চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে। গৌর ও জিল্লুরদের মা/দকের হাত এখন শ্রমিকের হাত, সেই হাত দিয়েই কঠোর পরিশ্রম করে আজ তারা বেঁচে আছে।

এই সকল প্রবেশনাররা প্রবেশনের সকল শর্ত সুচারুরুপে পালন করায় প্রবেশন কর্মকর্তা তাদের মুক্তির ব্যাপারে সুপারিশ করেন। আদালত প্রবেশন কর্মকর্তার রিপোর্ট ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আজ তাদের চুড়ান্ত মুক্তির আদেশ প্রদান করেন। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নড়াইল এর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক আমাতুল মোর্শেদা আজ (২৯/১২/২০২১) এই ব্যাতিক্রমীধর্মী আদেশ দেন। উক্ত আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ এই আদেশের বিষয় নিশ্চিত করেন। আদেশ দানের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা আইনজীবী সমতির সভাপতি বাবু উত্তম কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত পিপি মোঃ আলমগীর সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সঞ্জীব কুমার বসু, এ্যাডঃ তারিকুজ্জামান লিটু, প্রবেশন কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার সাহা ও আসা/মিগণের পক্ষে নিযুক্তেয় বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ। আদালত সূত্রে আরো জানা যায় উক্ত আদালত থেকে ইতোপূর্বে ৬৬ জন আসা/মীকে প্রবেশনে প্রেরন করা হয়েছে যাদের মধ্যে প্রবেশনের শর্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করায় মুক্তি প্রদান করা হয় ৪০ জন প্রবেশনারকে। আজ আদালত থেকে ফুল হাতে বের হওয়ার সময় প্রবেশনারদের অনেকের চোখেই ছিল আনন্দ অশ্রু কারণ এ এক অন্যরকম মুক্তি।