পিতার কবরে পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আমজাদ হোসেন

4
16

নিউজ ডেস্ক

গত শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পরিচালক ও অভিনেতা আমজাদ হোসেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (২১ দিসেম্বর) সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছালে পর প্রথমে তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আদাবরের বায়তুল আমান মসজিদে আমজাদ হোসেনের মরদেহ নেয়া হয়। সেখানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই মসজিদে তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধানিবেদন শেষে দুপুর সোয়া একটার দিকে তাঁর মরদেহ এফডিসিতে আনা হয়। এরপর জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়ে আমজাদ হোসেনের মরদেহ। সেখানে পিতার কবরে পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। মৃত্যকালে আমজাদ হোসেনের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। গত ১৮ নভেম্বরে তাঁর ব্রেইন স্ট্রোক হলে তাঁকে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ব্যাংককে নেয়া হয়।

আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ অগাস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি লেখক, গীতিকার, অভিনেতা হিসেবেও তাঁর ছিল সুখ্যাতি। ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি ১৯৬১ সালে রুপালি পর্দায় আসেন।

তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’র চিত্রনাট্য লেখায় জহির রায়হানের সাথে ছিলেন আমজাদ হোসেন। ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘কসাই’, ‘নয়নমনি’, ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘সুন্দরী’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’ সহ বেশ কয়েকটি নামকরা চলচ্চিত্রের পরিচালক আমজাদ হোসেন। তার লেখা ও নির্মিত টিভি নাটকও ছিল জনপ্রিয়। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, জীবনী, গল্প, প্রবন্ধ, এমনকি ফিকশন। বাংলার ইতিহাস নিয়েও তিনি তাঁর কলম চালিয়েছেন। গান লেখায়, চিত্রনাট্যে ও পরিচালনায় চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এছাড়া তাঁকে একুশে পদকেও ভূষিত করা হয়।