নড়াইলে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা!

0
101
নড়াইল

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে কথিত এক ডাক্তার সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এখন সব রোগের ভূয়া ডাক্তার মহাদেব দাসের বিরুদ্ধে নানাবিধ ভূল চিকিৎসার তথ্য বেরিয়ে আসছে। সদর হাসপাতালের সামনে খান ফার্মেসীর পেছনে আরোগ্য নিকেতন নাম দিয়ে ভুয়া ডাক্তার মহাদেব দাসের বিশাল চেম্বার রয়েছে। কথিত ডাক্তার মহাদেবের রোগীপ্রতি ভিজিট দুইশত টাকা।

সরেজমিনে জানা যায়, ওষুধ বিক্রেতা মহাদেব দাস এখন ডিএমএফ ডিগ্রীধারী অভিজ্ঞ ডাক্তার, সাজানো গোছানো চেম্বার। ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। শুধু প্রেসক্রিপশনে সরকারী বিধিনিষেধ থাকায় নামের পাশে ডাক্তার শব্দটি লিখতে পারেননি। ডাক্তার না হয়েও সবধরনের রোগী দেখছেন ভূয়া ডাক্তার মহাদেব দাস। এসব রোগী ধরে আনার দায়ীত্বে রয়েছে চিহ্নিত কিছু দালাল চক্র।

এ সব দালালেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কথা বলে গ্রামাষ্ণল থেকে আসা সাধারণ রোগীদের নিয়ে আসেন মহাদেবের চেম্বারে। রোগীর শরীরে নানাধরনের জটিল সমস্যার কথা বলে টেষ্ট স্লিপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে দালালের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন তার কাঙ্খিত স্থানীয় ল্যাবসান ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে। সেখানেও টেষ্ট প্রতি মোটা অংকের কমিশন রয়েছে দালালদের ও কথিত ভূয়া ডাক্তার মহাদেবের। ডিএমএফ হয়ে কিভাবে নার্ভ, কিডনি, মেরুদন্ড ও শিশু রোগীদের চিকিৎসা এবং টেষ্ট করার জন্য প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন ?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। আর জরুরী রোগীদের বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে রেফার্ড করি। এই সমস্ত ডাক্তারদের ভ্রাম্যমান আদালত করে জরিমানা করলেও জরিমানার টাকা পরিশোধ করে পরের দিন থেকেই আবার শুরু হয় এসব ভূয়া ডাক্তারদের প্রতারণা ব্যবসা। তাই দ্রুত ভূয়া ডাক্তার মহাদেবের প্রতারণামূলক কর্মকান্ড বন্ধ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কথা হয় বকুল মুন্সী নামে নার্ভের সমস্যা নিয়ে আসা এক রোগীর সাথে, হাতে বিভিন্ন টেষ্ট রিপোর্ট, ডাক্তার সাহেব টেষ্ট দিয়েছিলেন সেই টেষ্ট করে এনে ডাক্তার সাহেবকে দেখিয়ে ব্যাবস্থাপত্র নিলেন। ব্যাবস্থাপত্রে সাত রকম ওষুধ লিখেছেন, মহাদেবের কাছে এর পূর্বেও একবার এসেছেন । শুধু ওষুধ আর টেষ্টের সংখ্যা বাড়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলার মাইজপাড়া থেকে এসেছেন ষাটোর্ধ বিকাশ চন্দ্র দাস এই প্রতিবেদকের সামনেই ডাক্তার সাহেবকে বলতে লাগলেন আপনি যে ওষুধ দিয়েছেন তাতে কোন কাজ হয়নি। আপনার ওষুধ খেয়ে আমার প্রসাবে সমস্যা হচ্ছে, আমার পা ফুলে গেছে। এবার ডাক্তার সাহেব বললেন, আপনার কিডনিতে টিউমার হয়েছে। আপনি ওই ওষুধগুলো নিয়মিত খান ঠিক হয়ে যাবে।

একই উপজেলার বাঁশগ্রাম থেকে স্পাইনল কর্ডে সমস্যা নিয়ে তরিকুল ইসলাম নামে এক রোগী এসেছেন ওই ডাক্তারের নিকট। ডাক্তার মহাদেব টেষ্টের জন্য ল্যাবসানে ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়েছিলেন। রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাতে এসেছেন ।
আকলিমা নামে একজন এসেছেন নাতীকে নিয়ে, ডাক্তার মহাদেবের তত্ত্বাবধানে একজনকে দিয়ে ৪বছর বয়স্ক নাতিকে মুসলমানী দিয়েছিলেন। ১৫ দিন পার হলেও ক্ষতস্থান শুকায়নি,ক্ষতস্থানের অবস্থা খুবই খারাপ।

তাকে প্রশ্ন করা হলো একজন ডিএমএফ হয়ে সদর হাসপাতালের সামনে বসে এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার নামে জটিলরোগে আক্রান্ত রোগী দেখার এখতিয়ার আপনার আছে কিনা ? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রী না থাকলে নামের পাশে ডাক্তার লেখা যায়না, কিন্তু রোগী দেখার বিষয় কোন বাঁধা নেই।

এ বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন নাসিমা আক্তার জানান, নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার নামে এমন কর্মকান্ড যদি কেউ করে থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।