নড়াইলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের সাথে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ

0
216
নড়াইলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের সাথে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ
নড়াইলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতার বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের সাথে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৌর মেয়রের সাথে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে নড়াইল পৌরসভায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নড়াইল পৌর পরিষদ তাৎক্ষনিক জরুরি সভা ডেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না করলে পৌর এলাকার পানি ও সড়কের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ষোষণা দেওয়া হয়েছে। না হলে পরবর্তীতে অন্যান্য সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুর আড়াই ২টার দিকে মেয়রের সভা কক্ষে মেয়র আনজুমান আরার সভাপতিত্বে জরুরি সভায় প্যানেল মেয়র-১ কাজী জহিরুল হক, প্যানেল মেয়র-২ রেজাউল বিশ্বাস, কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, সচিব ওয়াবুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হাসান, হিসাবরক্ষক মোঃ সাইফুজ্জামানসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন।

নড়াইল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনজুমান আরা এ প্রতিনিধিকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পৌরসভায় গিয়ে নিজ কক্ষে বসে প্যানেল মেয়র কাজী জহিরুল হকের সাথে সম্প্রতি পৌরসভার হাট-বাজার, বাস টার্মিনালসহ ৫টি গ্রুপের টেন্ডার নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় পাশের চেয়ারে অবস্থান করা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিলয় রায় বাধন, ছাত্রলীগ কর্মী উচ্ছ্বাস ও শাওন উচ্চস্বরে বলতে থাকেন আমি নাকি এসব কাজ থেকে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫০% টাকা ভাগ নিয়েছি। এক পর্যায়ে তারা আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি প্রদান করে। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন এ ধরণের মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন এবং তারই সমর্থিত কিছু ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী আমার সাথে এ ধরণের আচরণ করেছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে নড়াইল-২ আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর থানা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হচ্ছে। এ ঘঁনায় আমি থানায় মামলা দায়ের করবো।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ৫টি গ্রুপে নড়াইল বাস টার্মিনাল, রুপগঞ্জ সাধারণ হাট, রূপগঞ্জ বাজার, পুরোনো বাস টার্মিনাল কাঁচা বাজার, কসাই খানা ও নড়াইল বাজার ৩৫ লাখ টাকায় টোল সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল এসব টেন্ডারের ওয়ার্ক ওর্ডার দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নিলয় রায় বাধন বলেন, আমরা পৌরসভায় গিয়েছিলাম হাটবাজার টেন্ডারের ৩টি কাজের বিডি ফেরত আনতে। সেখানে কিছু বিষয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু মেয়র মহোদয়ের সাথে কোনো অসৌজস্যমূলক আচরণ আমরা করিনি।

নড়াইল সদর থানার ওসি শওকত কবির বলেন, নড়াইল পৌর মেয়র মহোদয় আমাকে ফোনে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। এখনও রিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।