১৭ জানুয়ারি কমরেড অমল সেনের উনবিংশতম মৃত্যুবার্ষিকী

5
2
১৭ জানুয়ারি নড়াইলের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকী
কমরেড অমল সেন

স্টাফ রিপোর্টার

১৭ জানুয়ারি ইতিহাসখ্যাত নড়াইলের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের উনবিংশতম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নড়াইলের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে আজ বেলা দুইটায় অমল সেন স্মৃতিস্তম্ভে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে। আগামীকাল ১৮ জানুয়ারী বেলা বারোটায় একই স্থানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জানুয়ারী বেলা দুইটায় ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) দলের নেতৃবৃন্দ অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। কোভিড পরিস্থিতির কারনে এবার মেলা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ শে জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। দৌলতপুর বিএল কলেজে গনিতশাস্ত্রে অনার্স অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং নড়াইলে ফিরে এসে কৃষক আব্দোলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পিতার জমিদারী, অর্থ সম্পত্তি বিত্ত বৈভব তাঁকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানব জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা তথা শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইতে অংশগ্রহণ করা। তিনি সারাজীবন নিজেকে এ সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।পাকিস্তান শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই তাঁকে কারান্তরালে কাটাতে হয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মুক্তিকামী জনতা তাঁকে যশোর কারাগার ভেঙ্গে মুক্ত করে। এরপর স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পরে তিনি কয়েকটি বামপন্থী দলকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠন করেন এবং এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে অকৃতদার এই বিপ্লবী নেতা মৃত্যুবরণ করেন। মহান এই বিপ্লবীর মৃত্যুতে, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য নড়াইল জেলা পরিষদ ডাক বাংলো চত্বরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

যৌবনে বাড়ী ছেড়ে যে গ্রামে এসে এক কৃষক পরিবারে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই গ্রামের স্কুল, বাকড়ী স্কুলের পাশে বাংলাদেশ ও ভারতের অসংখ্য অনুসারী ও ভ্রাতৃপ্রতিম পার্টির নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে সমাহিত করা হয়। সমাধিস্থলে প্রতিবছর ১৭ ও ১৮ জানুয়ারী অমল সেন মেলা অনুষ্টিত হয় যেখানে সারা দেশের বামপন্থী রাজনীতির নেতা কর্মীরা মিলিত হন। সেখানে আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীন মেলার আয়োজন করা হয়। তাঁর জন্মদিন ১৯ জুলাইকে কেন্দ্র করে জন্মস্থান আউড়িয়ায় অনিয়মিতভাবে অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে।