“আমরা রাসেল ভাইয়ের গ্রেপ্তার চাই না”

0
4
ইভ্যালি

ডেস্ক রিপোর্ট

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেল মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে এ দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। পূর্বে ভোক্তা ও গ্রাহকদের নানা অভিযোগে আলোচিত ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের নিলয় কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংয়ের বাসায় (হাউজ ৫/৫এ, স্যার সৈয়দ রোড) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাসেলের গ্রেপ্তারের খবরে তার বাসার সামনে শত শত গ্রাহক ভিড় জমায়। তাদের মধ্যে অনেকেই ইভ্যালির কাছে টাকা দিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন, হারিয়েছেন সর্বস্ব। অনেকেই লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের খবরের পরপরই রাস্তার পাশে জড়ো হতে থাকেন শত শত মানুষ। গ্রেপ্তার করার বিপক্ষে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, ইভ্যালিতে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এক বিনিয়োগকারী বলেন, আমরা কোনো গ্রেপ্তার চাই না। আমরা চাই রাসেল ভাই সময় চেয়েছে আমরা সময় দিতে রাজি আছি।

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, আমরা তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে এসেছি। আমরা উনার (রাসেলের) গ্রেপ্তার চাই না। আমরা উনাকে সময় দিতে চাই।

আরেক গ্রাহক বলেন, এতদিন পরে কেন উনাকে এ্যারেস্ট করতে হবে। গত বছর যখন উনার ব্যাংক এ্যাকউন্টগুলো ওপেন করে দেওয়া হলো তখন তো সবাই আবার কনফিডেন্টলি বিনিয়োগ করল। এতগুলো মানুষের টাকা অনিশ্চিত হয়ে গেল। সরকার শুধু গ্রেপ্তার করেই দায় সারতে পারবে না। আমরা আশা করি, আমরা যারা টাকা পায় তাদের টাকা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করবে সরকার।
এর আগে এদিন বিকালে তার বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। অভিযান চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।

এদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় করা অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিন্দ্য।

আবেদনের অভিযোগে জানা যায়, ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আরিফ বাকের ও তার কয়েকজন বন্ধু চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। সব পণ্যের জন্য নির্ধারিত টাকাও পরিশোধ করেন তারা। তবে ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি করার কথা থাকলেও দিনের পর দিন পার হয়ে গেলেও পণ্য বুঝিয়ে দেয়নি ইভ্যালি। পরবর্তীতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে পণ্যে চাইতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ভুক্তভোগীকে পণ্য বুঝিয়ে না দিয়ে বরং ভয়ভীতি দেখান।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নাসরিন ও রাসেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। এ ছাড়া গত ১৪ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি।

এরও আগে গত ১৩ আগস্ট ইভ্যালিকে চিঠি দিয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের বিবরণ, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দেনার বিবরণ জানতে চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে সময় চেয়ে আবেদন করে ইভ্যালি। তবে সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট দেওয়া হিসেবে ইভ্যালি জানিয়েছিল, গ্রাহকরা তাদের কাছে ৩১১ কোটি টাকা পাবেন। (সূত্রঃ সময় টিভি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here