নড়াইলে ক্ষীরা-শশার চাষ করে অনেকের ভাগ্য বদল

3
9
নড়াইলে ক্ষীরা- শশার চাষ করে অনেকের ভাগ্য বদল
নড়াইলে ক্ষীরা- শশার চাষ করে অনেকের ভাগ্য বদল

শামীমূল ইসলাম

নড়াইলে শশা-ক্ষীরা চাষে বিপ্লব ঘটছে। প্রতি বছরই এ ফসলের চাষের জমি বাড়ছে। এ চাষ করে অনেকেই এখন ভাগ্য বদল করছেন। বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজার পরিবার এ চাষে যুক্ত। জেলার চাহিদা মিটিয়ে করোনাকালেও খুলনা, যশোর, রাজশাহী এবং ঢাকায় এ শশা ও ক্ষীরা রফতানি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে শশা ও ক্ষীরইয়ের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১০ হেক্টর বেশী। সদরের শোভারঘোপ, বড়গাতি, চুনখোলা,তারাপুর, বিছালী, চাকই, আড়পাড়া, মির্জাপুর, মধুরগাতি, বিড়গ্রাম, মুশুরি, কলোড়া, আগদিয়া, ভদ্রবিলা, মিরাপাড়া ও পাইকাড়া গ্রামে প্রধানত বানিজ্যিক ভিত্তিতে এই শশা ও ক্ষীরই চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন দেড় থেকে দু’শ মন শশা ও ক্ষীরা জেলার হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

সদরের সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের চুনখোলা গ্রামের ভূমিহীন জাহান্দার বিশ্বাস (৪০) জানান, দীর্ঘ ১১ বছর ১ এশর জমি বর্গা নিয়ে শশা ও ক্ষীরই-এর চাষ করছেন। এ কাজে তার স্ত্রী রূপালী বেগমও সরাসরি সহায়তা করে থাকেন। লাভের টাকা দিয়ে তিনি ১৫ শতক জমি কিনে আধা পাকা ঘরও নির্মাণ করেছেন। প্রতি বছর তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা ঘরে তোলেন বলে জানান।

বড়গাতি গ্রামের প্রান্তিক চাষি প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, তিনি ৮ বছর ধরে ৬০ শতক জমি লিজ নিয়ে শশা ও ক্ষীরই-এর চাষ করছেন। বছরে খরচ বাদে ৫০-৬০ হাজার টাকা ঘরে তোলেন। একই গ্রামের প্রান্তিক চাষি ভূবন বিশ্বাস জানান, ৬ বছর ধরে ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে শশার চাষ করছেন। প্রতি বছর প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ করেন।

সদরের বিছালী গ্রামের শশা ব্যাপারি মিঠু মোল্যা বলেন, বাজারে প্রতি মন শশা ৫শ-৬শ টাকা বিক্রি হলেও আগে ৮শ-৯শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০টি মিনি ট্রাক বোঝাই শশা ও ক্ষীরই যশোর, খুলনা, রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে করোনার কারনে পরিবহনে একটু সমস্যা হচ্ছে বলে জানান।

সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন বলেন, সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫শ চাষি এই শশা ও ক্ষীরই-এর সাথে সমন্বিতভাবে মরিচ, ধুন্দল ও চাল কুমড়ার চাষ করছেন। ফলে এসব চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

নড়াইল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, এখানকার মাটি ও জমির শ্রেণি শশা চাষে উত্তম হওয়ায় প্রতি বছরই এ চাষ বাড়ছে। সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় সারা বছরই শশা-ক্ষীরই চাষ সম্ভব। একজন কৃষক ৩৩ শতকের ১ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫ দিনে শশার চাষ করে ২০-৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

3 COMMENTS

  1. Great post. I was checking constantly this blog and I’m impressed! Extremely helpful info particularly the last part 🙂 I care for such information a lot. I was seeking this particular info for a very long time. Thank you and good luck.

  2. hello there and thanks on your information – I’ve certainly picked up something new from proper here. I did however expertise several technical issues using this website, as I skilled to reload the website many occasions prior to I could get it to load correctly. I were wondering in case your hosting is OK? Not that I’m complaining, but sluggish loading cases occasions will sometimes have an effect on your placement in google and can harm your high quality ranking if ads and ***********|advertising|advertising|advertising and *********** with Adwords. Well I’m adding this RSS to my e-mail and could look out for much more of your respective interesting content. Ensure that you replace this once more very soon..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here