“আমি রোযা ছিলাম, আমাকে কেন মা*রা হলো?” নড়াইলের মাইজপাড়ায় আত*ঙ্ক মোবাইল কোর্ট!

0
1157
"আমি রোযা ছিলাম, আমাকে কেন মা*রা হলো?" নড়াইলের মাইজপাড়ায় আত*ঙ্ক মোবাইল কোর্ট!

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার আত*ঙ্কে নড়াইলের মাইজপাড়া এলাকায় আরেক আত*ঙ্কের নাম হয়েছে মোবাইল কোর্ট। শুধু আত*ঙ্কই নয় মোবাইল কোর্টে থাকা পুলিশের কাছে মা*র খেয়ে ব্যবসায়ীরা এখন ক্ষু*ব্ধ। একদিকে দোকান না খুলতে পারার জ্বা*লা, অন্যদিকে মোবাইল কোর্টের পুলিশের প্রহারে দিশেহারা জেলার বড় এই বাজারের অন্ততঃ ৭ শতাধিক ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়ী ছাড়াও এলাকার খেটে খাওয়া মানুষও রয়েছেন মোবাইল কোর্ট নামক এমন বিপ*দে। ৩ মে রবিবার মাইজপাড়া বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের কষ্টের কথা বলেছেন। এদিকে আহত দিনমজুর একজনকে গত বুধবার ৬ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৩ হাজার টাকা ও ২ প্যাাকেট ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

হোসেনপুর গ্রামের দিনমজুর ইয়াছিন সিকদার। সপ্তাহ খানেক আগে গ্রামের একটি দোকানের পাশে বসে ছিলেন, আচমকা পুলিশ এসে পি*টিয়ে তার হাত ভে*ঙ্গে দেয়। পরের জমিতে মজুরি খেটে খাওয়া ইয়াসিনের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চেয়ে পরিবারের অন্ন জোগাড় করতে হচ্ছে, চিকিৎসারও পয়সা নেই তার। নিজের অবস্থা দেখাতে গিয়ে কান্নায় ভে*ঙ্গে পড়ে ইয়াছিন।

ইয়াসিনের এই অবস্থা দেখে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান তাৎক্ষনিকভাবে নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি বুঝতে পেরে মোবাইল কোর্টে মা*র খাওয়া ইয়াসিনকে তার কাছে পাঠাতে বলেন। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে নিয়ে যান ঐ মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে অপেক্ষার পরে দিনমজুর ইয়াসিনকে ৩ হাজার টাকা, দুই ব্যাগ ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান বলেন, ইয়াসিনকে নগদ টাকা আর সামগ্রী দিয়েছে, আর কাগজে কিছু লিখে রেখে স্বাক্ষর নিয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের কষ্ট ছিলো এইরকম-দা’-কা*চির দোকানদার সুজল কর্মকার দোকান বন্ধ করে বাইরে ছিলো। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেটের গাড়ি থেকে নেমে আসে দুই পুলিশ, হাত তুলতে বলেই শরীরের পশ্চাৎ*দেশে অন্ততঃ ৩/৪টি লা*ঠির বা*ড়ি মা*রে। নিজের দোকানের সাটার বন্ধ করে ইয়াছিন তার পশ্চাত*দেশে বড় কালসি*টে দা*গ দেখিয়ে কেঁ*দে ফেলে।

সুজল কর্মকারের অভিযোগ, আমার অন্যায় থাকলে ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব জরিমানা করতো, আমি সেটা দিতাম কিন্তু পুলিশ আমাদের অ*ন্যায়ভাবে কেন পি*টাবে? একই দশা বাজারে আসা কৃষক দেলোয়ারের, পুলিশ পি*টিয়ে তার হা*ড় ফা*টিয়ে দিয়েছে।

ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী জয়নাল জানায়, তার দোকান খোলা দেখে মোবাইল কোর্টে থাকা পুলিশ শাহরিয়ার বলে, আমাকে ৫’শ টাকা দাও দোকান খোলা রাখো। ঐ ব্যবসায়ী পুলিশকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্নাকে ডেকে এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫’শ টাকা জরিমানা করে। জয়নাল রাগের সাথে বলেন, জরিমানা ৫ হাজার করুক, আমি রোযা ছিলাম, আমাকে কেন মা*রা হলো?

বাজারের সাথে বাড়ির সামনেই তার ডোল, কুলা আর বাঁশের তৈরী সরঞ্জাম এর ব্যবসা প্রণব দাসের। সকালে বাজারে টিউবঅয়েলে মুখ ধুতে আসলে পুলিশ কিছু জিজ্ঞেস করার আগে হাত উঁচু করতে বলে, এরপর বেধ*ড়ক পেটা*নো হয় তাকে।

একই রকম ভাবে কাঁচাবাজারের শরীফুল, বাপ্পীসহ অন্ততঃ ২০ জন অকারণে মা*র খেয়েছেন। প্রত্যেককেই মা*রের আগে হাত উপরে তুলতে বলা হয়। এখানেই শেষ নয় একজন ইজিবাইক চালককে বাইক চালানোর অপ*রাধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনেই তার চুল কে*টে দিয়েছে, কাঁদ*তে কাঁদ*তে সে চলে যায়। স্থানীয় একজন ঔ*ষধ ব্যবসায়ী বলেন, পুলিশ রিয়াজ এসে আমার দোকান থেকে সুতায় বা*ধা কাঁ*চি কেঁটে নিয়ে যায়, এরপর একজন ইজিবাইক চালকের চুল কে*টে দেয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পুলিশের মা*র খেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্নাকে নালিশ করলে তিনি উল্টো তাদের ধম*ক দিয়েছেন, আবার পুলিশ পুনরায় ধাও*য়া করেছে।

জেলার অন্যতম বৃহৎ এই বাজারে ধান-পাটের আড়ত, ভূষিমালের কারবারী সহ ছোট-বড় প্রায় ৭’শ দোকান রয়েছে। গড় প্রতিদিন ব্যবসা প্রায় এককোটি টাকার। অথচ সবকিছু বন্ধ করে দোকানীরা ক*ষ্টে দিন কাটাচ্ছে। দোকান পাহারা দেবারও ব্যবস্থা নাই। ইতিমধ্যে পাহারার অভাবে কয়েকটা দোকান চু*রি হয়ে গেছে।

মাইজপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রনব কুমার সাহা বলেন, আমাদের দোকানে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল এগুলো পাহারা দিতেও ব্যবসায়ীরা বাজারে আসে। কিন্তু ব্যাবসায়ীদের এভাবে মা*রা অন্যায় এবং অমানবিক, আমরা জেলা প্রশাসককে এই ব্যাপারে অবহিত করেছি।

চারিখাদা এলাকার বাসিন্দা ঢাকার একটি মৎস্য প্রকল্পের চেয়ারম্যান বিষ্ণুপদ রায় বলেন, মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেট এর সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবার সাহস পায় কি ভাবে? আমরা এ ঘটনাগুলোকে ধি*ক্কার জানাই। এটা চলতে দেয়া যায় না।

নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিশকাতুল তামান্না মোবাইল কোর্টে পুলিশের মা*রপি*ট বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, এমন কিছু তো ঘটেনি, তাছাড়া আমি বেশ কিছুদিন মাইজপাড়া এলাকায় যাইনি।

নড়াইল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনজুমান আরা বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে পুলিশ এধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে,তবে তার দায় এড়াতে পারে না ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট, যদি কেউ এগুলোর জন্য দায়ী হয় সেটার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।