একমাস যদি আমরা পেঁয়াজ না খাই, মজুতদাররা বাপ ডাকবেঃ রাষ্ট্রপতি

2
82

ডেস্ক/এসএস

অসা’ধু ব্যবসায়ী, লু’টেরা, মুনাফাখো’র ও মজুতদারদের বিরু’দ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বলেছেন, “এরা গুজব ছড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংক’ট তৈরি করে। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের প্রতিহ’ত করতে হবে।” রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ২৩ নভেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তব্যে একথা রাখেন।

এসময় তিনি সম্প্রতি পেঁয়াজ, লবণ ও চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন এবং এই পরিস্থিতির তীব্র নি’ন্দা করেন। তিনি বলেন, “পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর, লুটেরা ও মজুতদারদের মধ্যেও ঐক্য রয়েছে। কিন্তু সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঐক্য নেই। এখন এই সব দু’ষ্কৃতকারীদের বিরু’দ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য সাধারণ জনগণকে দু’র্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তিনি পেঁয়াজ, লবণ ও চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদের ব্যাপারে গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরও এর বিরু’দ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন।

এসময় তিনি পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হ্রাস পায়। এমনকি রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষও পণ্যের মূল্যহ্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। এদেশে রমজান মাস এলেই ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত বেগুন, শশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়।” এজন্য তিনি জনগণকে অবশ্যই এই দু’ষ্কর্মের বিরু’দ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “পেঁয়াজ পচনশীল। ডাক্তাররা বলেন, পানি না খেয়ে মানুষ ২১ দিন বাঁচতে পারে। পেঁয়াজ না খেয়ে আমরা একমাস থাকতে পারি না? আমরা, জনগণ যদি একমাস পেঁয়াজ না খাই, পেঁয়াজের যারা মজুতদার আছে, যারা জোর করে পেঁয়াজ রেখে দিয়েছে, তারা এসে আপনাদের বাপ বলে ডাকবে। বলবে বাবা পেঁয়াজ যে দামে দাও দিয়ে নিয়ে যাও। আমরা এই সুযোগ কেন নিচ্ছি না?”

এছাড়াও উচ্চশিক্ষা যাতে কোনক্রমেই সনদসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি মনে করেন মানসম্মত না হলে শিক্ষা মূল্যহীন। এবিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরির লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তাক অধ্যয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাঠ্যবিষয়ের সাথে সাথে বহির্জগতের জ্ঞানভা-ার থেকেও জ্ঞান আহরণ করতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কেও জানতে হবে। নিজেদের কর্মী ও জ্ঞানী করে তোলাই শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য।”

এসময় তিনি শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য গ্রাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান।