নড়াইলের লোহাগড়ায় শিক্ষকের প্রহারে শিক্ষার্থী হাসপাতালে

4
275

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমান বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী সাঈম শেখকে (১৪) লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।সে লোহাগড়া পৌরসভার রাজপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে। এ ঘটনার পর এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। সাঈমের অভিভাবকরা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নিকট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩জুলাই) লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ে টিফিনের পর সপ্তম শ্রেণির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের ক্লাস নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মো.ওবায়দুর রহমান শ্রেণিকক্ষে আসেন। ক্লাস নেয়ার এক পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো.সাঈম শেখ শ্রেণি শিক্ষক ওবায়দুর রহমানকে বলে যে, ‘স্যার, কিভাবে কম্পিউটার অন (চালু) করতে হয় ? এ সময় শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে বলেন যে, ‘তুমি আমার সঙ্গে মশকরা করছো! এ কথা বলার পরই শ্রেণি শিক্ষক ওবায়দুর শিক্ষার্থী সাঈমকে বেধড়ক চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। শিক্ষকের নির্দয় মারপিটের এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যালয়ের অপর কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাঈমকে কিছুটা সুস্থ্য করে তোলে। এরপর সাঈম তার সহপাঠিদের সহযোগীতায় বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর বেশ কয়েকবার বমি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সাঈমের মা আফরোজা বেগম তাকে নিয়ে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে সাঈম লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সাঈমের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অপরদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাহবুব আহম্মেদের মধ্যস্থতায় মিমাংশার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক মো.ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সাঈম আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিল। সে কারণে তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েটি। শুনেছি বাড়ী যেয়ে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আমার বিরুদ্ধে তার অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট একটি অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পরেরদিন প্রধান শিক্ষক এ বিষয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। ৭দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। উপায়হীন হয়ে তার সঙ্গে এ আচরণ করেছি।’