ভাষা সত্ত্বার পরিচয়ঃ শিরোনাম পড়েছি, মনে হয়েছে আপত্তিকর

0
16
ভাষা সত্ত্বার পরিচয়ঃ শিরোনাম পড়েছি, মনে হয়েছে আপত্তিকর
ভাষা সত্ত্বার পরিচয়ঃ শিরোনাম পড়েছি, মনে হয়েছে আপত্তিকর

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এমএসএ

কথায় আছে, ব্যবহারই বংশের পরিচয়। আসলে কথাটি হয়তো অভিমান করে বলা হয়েছে। ব্যবহার আর বংশের মধ্যে সম্পর্ক কতটুকু? ধরুন আমি অমুক বংশের মুখ থেকে অমুখ গালি প্রলাপ শুনেছি। অতএব সেই বংশের নাম কানে আসতেই আমি রীতিমতো বুঝে নেব যে ঐ বংশের বৈশিষ্ট্য কি হতে পারে? ঐ বংশে কি আর কোন ভালো মানুষ নেই? অথবা আচরণ ভালো হবার জন্য কি তার ভালো বংশে জন্ম নিতে হবে? প্রভাব বুঝতে পারছেন? “নিজ হাতে গড়া মোর কাচা ঘর খাঁসা।”

ব্যবহার অথবা আচরণ বলে দেয় সত্ত্বার স্বভাব কেমন। এই ব্যবহারের এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো ভাষা। ভাষা মানুষের আচরণের এক বিশেষ বাহক। এই ভাষা কিংবা ব্যবহারই স্বত্ত্বার পরিচয় নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। ভাষার উপাদানগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর অর্থ। সেই অর্থকে পূঁজি করে বক্তা বা লেখক তার শ্রোতা বা পাঠককে যে জ্ঞান বা তথ্য দিয়ে থাকে সেটা যথার্থ না হলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। উপরিউক্ত সকল সত্ত্বাগুলোর কিন্তু নিজ নিজ কর্তব্য আছে। যা সামাজিক তা সার্বিক। সমাজ এক গণ্ডির মধ্যে চলে যা সকলে গ্রহণ করে। ভদ্রতাও এই অংশের মধ্যে, বাহিরে গেলে বেয়াদবি। সমাজের এই সংস্কারপন্থী আচরণ ধর্মের কাছ থেকে ধার করা যা সমাজ আজ আংশিক অস্বীকার করে চলে। তবে ইতিহাসের তাগিদে সমাজ তা মেনে নিতে বাধ্য।

এই ভদ্রতার খাতিরেই আমি সংবাদটির শিরোনাম দেখে তার নিন্দা জানাতে দু’কথার আলাপ করছি। এমন শিরোনাম কি গ্রাহককে আকৃষ্ট করছে? আর না করে থাকলে বুঝে নিতে হবে তার চিন্তাশক্তি দৃঢ়। সংবাদের এমন উপস্থাপন দু’রকমের অর্থ বহন করে যে অভিনেত্রী তার সন্তান নিয়ে নিজ কর্মে মনোযোগী অথবা শিরোনামটি অন্য কোন খারাপ ভাবার্থ প্রকাশ করছে যা সমাজের কিছু অসামাজিক আচরণ বা চেতনা থেকে প্রাপ্ত। আমি মানুষটির ব্যক্তিগত জীবনের উপর আলোকপাত করতেও সংকোচবোধ করছি। এখানে প্রয়োজন নেই। বিনোদনের জন্য কোন বিলাপ আমি বকছি না। একটা কথাই ভাবছি প্রজন্ম কি বলবে এবং তাকে অসুস্থ পরিবেশ দেবার দায়ভার কে বহন করবে! পরিণামে বলতে চাই এই ধরনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলে রিপোর্ট করুন। সেটা করতে সময় সংকট হলে এড়িয়ে যান। পাঠক হিসেবে আমার কর্তব্য সুস্থ মননশীলতার চর্চা।

সংবাদে পাঠক আনতে চাইলে আপনি প্রকাশক বা সম্পাদক হিসেবে ব্যতিক্রমী শিরোনাম দিতেই পারেন তবে সেই শিরোনাম যেন নৈতিকতাকে ধুয়ে মুছে না দেয়। মনে রাখবেন দুই ডলার বেশি উপার্জনের জন্য, অপ্রকৃষ্ট ভাবার্থ সম্মিলিত শিরোনাম আপনার পাঠকের সংবেদনশীলতায় আঘাত আনতে পারে। এতে উৎসের (অনলাইন-অফলাইন সংবাদ/যে কোন) প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হবে। যদি ঘৃণার সৃষ্টি না হয় বুঝতে হবে এটা সামাজিক বা জাতিগত সমস্যা। সংবাদ, জাতি ও সমাজ সবখানেই পচন ধরেছে।