নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্চিতের প্রতিবাদ

0
70
নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্চিতের প্রতিবাদ
নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্চিতের প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনি ও দশম শ্রেণির ছাত্রদের মারামাটি ঠেকাতে গিয়ে স্কুলের এক শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার (৩০ মে) বেলা ১১টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সামনে লোহাগড়া উপজেলা শিক্ষা পরিবারের সদস্যের ব্যানারে শিক্ষক সমাজ এক মানববন্ধন করেন।

এ সময় বক্তব্য দেন লোহাগড়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হাতুজ্জামান, জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জমান ঠান্ডু, সদর উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাদারণ সম্পাদক, গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, লোহাগড়া উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আমির হোসেন, লক্ষীপাশা আর্দশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হাসানুজ্জমান প্রমুখ।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৯মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে থেকে বেপরোয়াভাবে মটোরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কয়েক ছাত্র তাদের ধমক দেয়। এ ঘটনার কিছু সময় পর নবম শ্রেণির ছাত্র এবং বহিরাগত কিছু উচ্ছৃংল ছাত্র ও যবক লাঠিসোটা নিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে দশম শ্রেণির কয়েক ছাত্রের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ছাত্রদের এ মারামারি ঠেকাতে গেলে তিনি তাদের হাতে লাঞ্চিতের শিকার হন। বিষয়টি জানার পরপরই লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসগর আলী, লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দিন প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রাত ১২টার দিকে ভূক্তভোগি শিক্ষক আব্দুস সালাম বাদি হয়ে ৭জনের নাম উল্লখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫-২০জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন।

পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূক্তভোগি সহকারী শিক্ষক এ মামলার বাদি আঃ সালাম বলেন, দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও কিছু অছাত্র লাঠি, রড, টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে এক ছাত্রকে মারধরে চেষ্টা করে। আমি ঘটনাটি দেখে তখন তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করি। তখন এসব ছাত্র আমাকে লাঞ্চিত করে। এর পর তাদের কিছু অভিভাবক আমাকে উল্টো অভিযুক্ত করে কেন আমি ঠেকাতে গেলাম। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আমাকে কয়েক ব্যক্তি গালিগালাজ করে এবং পূনরায় লাঞ্চিত করে।

লোহাগড়া পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হাতুজ্জামান বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ২টা থেকে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছিল। এ সময় স্কুল প্রায় ফাঁকা ছিল এবং শিক্ষকও কম ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে কিছু স্কুলের ছাত্র এবং কিছু বহিরাগত উচ্ছৃংল ছেলে স্কুলের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস ছালাম তাদের নিবৃত করতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং লাঞ্চিত করে। তখন আমি মাইকে সবাইকে নিবৃত করার চেষ্টা করি। আমরা চাই এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীরাই আইনের আওতায় আসুক। সবাই আমাদের সন্তানের মতো। আমার দাবি নিরীহ কেউ যেন হয়রাণীর শিকার না হয়। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা মিলনকে কয়েকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।