নড়াইলে অ’ত্যাচা’রের অভিযো’গে এতি’মদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘে’রাও

0
48
নড়াইলে অ'ত্যাচা'রের অভিযো'গে এতি'মদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘে'রাও
নড়াইলে অ'ত্যাচা'রের অভিযো'গে এতি'মদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘে'রাও

স্টাফ রিপোর্টার

নড়াইল সরকারি শি’শু পরিবারের এতি’ম শি’শুরা তাদের ওপর কর্তৃপক্ষের অ’ত্যা’চা’রের অভিযো’গ এবং বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘে’রাও করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অ’ব’স্থা’ন করলে পরে তাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মি’মাং’সা’র আঃশ্বা’স দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল সরকারি শি'শু পরিবার ডরমিটরি
নড়াইল সরকারি শি’শু পরিবার ডরমিটরি

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে নড়াইল সরকারি শি’শু পরিবারে গেলে নবম শ্রেণির ছাত্র মোঃ তৌফিক, ৭ম শ্রেণির আসিফ গাজী, ৬ষ্ঠ শ্রেণির রবি, মুন্না, প্রিন্স ও ৪র্থ শ্রেণির হুসাইন বিভিন্ন অভিযো’গে জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ৭ম শ্রেণির ছাত্র ১০-১২ দিন ধরে অ’সু’স্থ সোহান সিকদারের জ’রুরি চিকি’ৎসার জন্য নী’চে গেটের সামনে আসি। এ সময় গেট ব’ন্ধ ছিল। ডা’কাডা’কি করে কাওকে না পেয়ে কা’চের জানালার ফাঁ’ক দিয়ে নী’চে নে’মে কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে সোহানের চিকি’ৎসার দা’বি জানাই। এই ছিল আমাদের অ’পরা’ধ।

পরে রাত ২টার দিকে কর্তৃপক্ষ ২জন পুলিশকে সাথে নিয়ে তাদের ঘু’ম থেকে ডে’কে তু’লে কা’ন ধ’রায় এবং চ’ড় থা’প্পড় মা’রে। আমাদের অ’পরা’ধ আমরা নাকি *হৈ’*চৈ ও শ’ব্দ করেছি এবং চেয়ার-টেবিল *ভাং’চু’র করেছি। এসব আমরা কিছুই করিনি। পুলিশ বলেছে, তোরা গাঁ’জা ও ফে’ন্সিডি’লখো’র, জ’ঙ্গি ও স’ন্ত্রা’সী হবি। কখনও মানুষ হতে পারবি না। ছোট থেকে বড় সবাই তোরা খা’রা’প।

নড়াইল সরকারি শি'শু পরিবার
নড়াইল সরকারি শি’শু পরিবার

তারা আরও জানায়, তাদের সাথে কর্তৃপক্ষ প্রায় সময় অ’সদা’চ’রণ করে থাকে। কিছু হলেই আমাদের নাম কে’টে দেওয়ার ভ’য় দেখায়। মৈত্রি মন্ডল নামে এক কারিগরি প্রশিক্ষক প্রায় তাদের জন্য ব’রাদ্দ’কৃত বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর নিয়ে যায়। তাদের দিয়ে উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাঝে মাঝে ঘরের মে’ঝে পরিঃস্কার করায় এবং ময়’লা ফে’লায়। বর্তমান উপ তত্ত্বাবধায়ক গত ২বছর এখানে আসার পর থেকে এ সম’স্যা শুরু হয়েছে। তারা বলেন, ডর’মেটরিতে ৩০টি ফ্যানের মধ্যে ৭টি ফ্যান ন’ষ্ট। অনেকগুলি আ’স্তে আ’স্তে ঘো’রে। জগ নেই, গ্লাস নেই। দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে খেতে দেয়। ফলে অনেক সময় খাবার দিয়ে গ’ন্ধ বেরায়। এতদিন খেলতে দিত না। মাত্র কয়েকদিন দিচ্ছে।

নড়াইল সরকারি শি'শু পরিবারের এতি'ম
নড়াইল সরকারি শি’শু পরিবারের এতি’ম

৭ম শ্রেণির ছাত্র সোহান সিকদার জানায়, সে ১০-১২ দিন ধরে অসু’স্থ। গ’লা ব্য’থা, স’র্দি-কা’শি রয়েছে। শুধু না*পা খেতে দেয়। আর একটি কা’শির সিরা’প দিয়েছে। এতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সি’রাপ খে’লে মা’থা ঘো’রায়। রোববার রাতে আমাদের প্রতিবা’দের কারনে এতো দিন পর সদর হাসপাতালে চিকি’ৎসক দেখাতে নিয়ে যায়। ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ মোল্যা জানায়, ১ মাস ধরে তার ডা’ন হা’তে চু’লকা’নি-এ’কজি’মা ধরনের সম’স্যা হয়েছে। ঠিকমতো ও’ষু’ধ দেওয়া হচ্ছে না। ৬ষ্ঠ শ্রেণির আল মামুন জানায়, সে এক মাস ধরে তার হা’তের আ’ঙ্গুল কে’টে গেছে। তার ঠিকমতো চিকি’ৎসা দেওয়া হয়নি। জোবায়ের মোল্যা জানায় তাকে গত ১বছর পূর্বে তাকে ডি’স লাইনের তা’র দিয়ে উপ তত্ত্বাবধায়ক স্যার মে’রেছিল।

বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে সরকারি শি’শু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আসাদুল্লাহ বিভিন্ন অভিযো’গ অ’স্বী’কার করে বলেন, আমরা তাদের সাথে সব সময় ভালো ব্যবহার করি। তারা করো’না ভাই’রাসের প্রা’দুর্ভাব শু’রু হবার পর এমন উশৃঙ্খল আ’চরণ শুরু করেছে। তাদের কিছু দিন খেলতে, সাতার কা’টতে না দেওয়া একটি কারণ হতে পারে।

রোববার রাতে নিবা’সিরা লা’ঠি নিয়ে নিচে বের হয় আমাকে মা’রার জন্য। রাতে সমাজসেবার উপ পরিচালকের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে তাদের বুঝিয়েছে। কোনো মা’রধ’র করেনি। শি’শু পরিবারে ৬৬জন ভর্তি থাকলেও নিবা’সি উপস্থিত থাকে ৫০-৫৫জন। কিন্তু প্রায় সবার নামেই খাবার রান্না হয়। এ অভিযোগের বিষয়টি তিনি অ’স্বী’কার করেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রতন হালদার বলেন, শি’শুরা একটু উ’শৃঙ্খ’ল হয়ে গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে তারা ড’রমেট’রির চেয়ার-টেবিল ভাং’চু’র করেছে। ফলে ব্যা’পক শব্দ হয়েছে। ট’হ’ল পুলিশ শ’ব্দ টের পেয়ে আমাদের অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু কাওকে মা’রধ’র করেনি। তাদের দিয়ে কাজ ক’রানো, খেলতে না দেওয়া, শা’রী’রিক ও মা’নসি’কভাবে নি’র্যা’তন করার কথা তিনি অ’স্বাী’কার করেন। এছাড়া প্যান ন’ষ্ট, বা পো’শাক না পাওয়া, জগ, গ্লাসসহ বিভিন্ন দ্রব্য না পাওয়ার ব্যাপারে বলেন, আমরা বরা’দ্দের বাইরেতো দিতে পারি না। তারপরও এসব ঘটনায় একটি ত’দ’ন্ত টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, শি’শুরা তাদের কিছু সম’স্যার কথা জানিয়েছে। শি’শু পরিবারের শি’শু এবং কর্তৃপক্ষ নিয়ে সোমবার বসাবসি করেছি। দু’প’ক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযো’গ শো’না হয়েছে। কিভাবে এর সু’ষ্ঠু সমাধান করা যায় সেটা দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here