নড়াইলে একুশে পদকপ্রাপ্ত চারণকবি বিজয় সরকারের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0
48

স্টাফ রিপোর্টার

একুশে পদকপ্রাপ্ত চারণকবি বিজয় সরকারের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিজয় সরকার ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল কবির প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কবিতা পাঠের আসর, বিজয়গীতি প্রতিযোগিতা, কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা এবং বিজয়গীতি পরিবেশন। এদিকে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি কবির নিজ গ্রাম ডুমদিতে বিজয়গীতি পরিবেশন, আলোচনা সভা ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।

বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মঞ্চে বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সচিব অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, অধ্যক্ষ রওশন আলী, শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মলয় কুন্ডু, নড়াইলে প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহবায়ক আকরাম শাহীদ চন্নু, ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মোঃ জাহিদ হাসান প্রমুখ।

বিজয় একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। ১৮০০ বেশি গান লিখেছেন তিনি। প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। ‘পাগল বিজয়’ হিসেবে সমধিক পরিচিত তিনি।

আধ্যত্মিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিজয় সরকার গেয়েছেন-যেমন আছে এই পৃথিবী / তেমনিই ঠিক রবে/ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে…। ‘নবী নামের নৌকা গড়/ আল্লাহ নামের পাল খাটাও/ বিসমিল্লাহ বলিয়া মোমিন/ কূলের তরী খুলে দাও…।’ কিংবা ‘আল্লাহ রসূল বল মোমিন/ আল্লাহ রসূল বল/ এবার দূরে ফেলে মায়ার বোঝা/ সোজা পথে চল…।’ স্ত্রী বীনাপাণির মৃত্যুর খবরে গানের আসরেই গেয়েছেন-‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ ওরে একদিন ভাবি নাই মনে/ সে আমারে ভুলবে কেমনে…।’ পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর ‘নক্সী কাথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থের নায়ক-নায়িকা ‘রূপাই’ ও ‘সাজু’র প্রেমকাহিনী নিয়ে বিজয় সরকার গেয়েছেন-‘নক্সী কাঁথার মাঠেরে/ সাজুর ব্যাথায় আজো রে বাজে রূপাই মিয়ার বাঁশের বাঁশি…।’ ‘কী সাপে কামড়াইলো আমারে/ ওরে ও সাপুড়িয়ারে/ আ…জ্বলিয়া পুড়িয়া মলেম বিষে…।’

উল্লেখ্য, কবিয়াল বিজয় সরকার ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। এই গুণী শিল্পী ২০১৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন (১৯০৩ সালের ২০ফেব্রুয়ারি) নড়াইল সদরের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here